মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝে ইসরায়েল লেবাননের সার্বভৌমত্বের ওপর এক গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণের ছক আঁকছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়ার গ্যালান্তি একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সীমান্ত থেকে লেবাননের অভ্যন্তরে অবস্থিত লিটানি নদী পর্যন্ত বিশাল একটি ভূখণ্ড সামরিকভাবে দখল করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এই এলাকা মোট আকারে লেবাননের মোট জমির প্রায় ১০ শতাংশের সমান, যা দেশের এক বিশাল অংশ। ইসরায়েল পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছে যে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ও তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আনা। এজন্য তারা সীমান্তের আশেপাশের সব ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দিতে প্রস্তুত, যেন ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা যায়।
এছাড়াও, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান চালানোর কারণে অন্তত ৬ লাখ লেবানিজ নাগরিক তাদের নিজ নিজ বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারেন এবং হিজবুল্লাহর উপস্থিতি বন্ধ করতে না পারেন, ততক্ষণ পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকবে। এই কঠোর অবস্থান মূলত একটি বৃহৎ ‘বাফার জোন’ তৈরির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই সংঘাতের সূত্রপাত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হঠাৎ করে বিমান হামলা চালায়। এর প্রায় এক সপ্তাহ পর, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইরানের পক্ষ নিয়ে ইসরায়েলের পরিস্থিতি জটিল করে তোলে। তারা নিয়মিত রকেট ও মিসাইল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, এতে সরাসরি যুদ্ধের মাত্রা বেড়ে গেছে।
গত সোমবার, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সাথে সংঘর্ষে ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে চারজন নিহত হন, যার মধ্যে তিনজনের পরিচয় জানানো হয়েছে। তারা হলেন ক্যাপ্টেন নোম মাদমোনি (২২), স্টাফ সার্জেন্ট বেন কোহেন (২১), এবং স্টাফ সার্জেন্ট ম্যাস্কিম এনটিস (২১)। অবশিষ্ট একজনের পরিচয় ও পদবি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে। এই প্রাণহানি এবং লিটানি নদী অবধি ভূমি দখলের হুমকি পরিস্থিতিকে আরও ভয়ংকর করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইসরায়েল সত্যিই লিটানি নদী পর্যন্ত আঞ্চকল দখল করে নেয় এবং জনবসতি ধ্বংস করে দেয়, তবে এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কারণ সাধারণ মানুষের বাস্তুচ্যুতি ও বাড়ি ধ্বংসের হুমকি এখন এক মানবিক সংকটের মুখোমুখি করে তুলেছে এই অঞ্চলে। এভাবে, মধ্যপ্রাচ্য এক নতুন মানবিক ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের শিকার হতে চলেছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























