০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

লক্ষ্মীপুরে পুলিশ-বৈষম্যবিরোধী সংঘর্ষে ওসিসহ ১০ আহত, ২ আটক

লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের চকবাজার এলাকায় শনিবার-রবিবারের ওই ঘটনার জের ধরে রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে পুলিশের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংঘর্ষে সদর মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বিকেল সাড়ে চারটা থেকে চকবাজার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা এই নির্দেশনা দেন। তার আগেই শনিবার রাতে পৌর এলাকার হাসপাতাল রোডে বৈষম্যবিরোধী কর্মী হাবিবুর রহমান ও ছাত্রদল সমর্থিত জুলাই ফাইটার্সের কর্মী আকবর হোসেনের মধ্যে কথা কাটাকাটির জের ধরে হাতাহাতি ঘটে। সে ঘটনার প্রভাবেই একই স্থানে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।

তবে নির্ধারিত সময়ে বৈষম্যবিরোধী নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বিক্ষুব্ধদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, বেশ কিছু দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যায়।

সংঘর্ষে সদর মডেল থানার ওসি মো. ওয়াহিদ পারভেজ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হন। লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) অরূপ পাল জানান, ওসির হাতের আঙুলে আঘাত পেয়েছেন; তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং আঙুলের এক্স-রে করা হয়েছে। এছাড়া উভয়পক্ষ মিলিয়ে আরও নয়জন আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ঘটনার সময় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বলয় মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের পরে পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে বলে জানায়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ছিল এবং নির্ধারিত সময় কর্মসূচিতে অংশ নিতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। তিনি বলেন, ‘একপর্যায়ে পুলিশ অপ্রত্যাশিতভাবে লাঠিচার্জ করে, এতে আমাদের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন।’

অন্যদিকে ছাত্রদল সমর্থিত জুলাই ফাইটার্সের কর্মী আকবর হোসেন দাবি করেন, প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করার পর বিজয়ীরা সেটি ভঙ্গ করার চেষ্টা করে এবং তাদের উপর আগে থেকেই হামলা চালায়।

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. রেজাউল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার লক্ষ্যে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। বিকেলে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল করার চেষ্টা হলে পুলিশ বাধা দেয় এবং এ ঘটনায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-ঘটনা ঘটে। 현재 পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত এবং স্বভাবতই শান্ত রয়েছে।

আহত ব্যক্তিদের সঠিক সংখ্যা ও ঘটনার বিস্তারিত যাচাই-বাছাই চলছে। প্রশাসন ও পুলিশ উভয়পক্ষে কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে যাতে আরেকটি বিশৃঙ্খলা না ঘটে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

লক্ষ্মীপুরে পুলিশ-বৈষম্যবিরোধী সংঘর্ষে ওসিসহ ১০ আহত, ২ আটক

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের চকবাজার এলাকায় শনিবার-রবিবারের ওই ঘটনার জের ধরে রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে পুলিশের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংঘর্ষে সদর মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বিকেল সাড়ে চারটা থেকে চকবাজার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা এই নির্দেশনা দেন। তার আগেই শনিবার রাতে পৌর এলাকার হাসপাতাল রোডে বৈষম্যবিরোধী কর্মী হাবিবুর রহমান ও ছাত্রদল সমর্থিত জুলাই ফাইটার্সের কর্মী আকবর হোসেনের মধ্যে কথা কাটাকাটির জের ধরে হাতাহাতি ঘটে। সে ঘটনার প্রভাবেই একই স্থানে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।

তবে নির্ধারিত সময়ে বৈষম্যবিরোধী নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বিক্ষুব্ধদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, বেশ কিছু দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যায়।

সংঘর্ষে সদর মডেল থানার ওসি মো. ওয়াহিদ পারভেজ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হন। লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) অরূপ পাল জানান, ওসির হাতের আঙুলে আঘাত পেয়েছেন; তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং আঙুলের এক্স-রে করা হয়েছে। এছাড়া উভয়পক্ষ মিলিয়ে আরও নয়জন আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ঘটনার সময় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বলয় মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের পরে পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে বলে জানায়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ছিল এবং নির্ধারিত সময় কর্মসূচিতে অংশ নিতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। তিনি বলেন, ‘একপর্যায়ে পুলিশ অপ্রত্যাশিতভাবে লাঠিচার্জ করে, এতে আমাদের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন।’

অন্যদিকে ছাত্রদল সমর্থিত জুলাই ফাইটার্সের কর্মী আকবর হোসেন দাবি করেন, প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করার পর বিজয়ীরা সেটি ভঙ্গ করার চেষ্টা করে এবং তাদের উপর আগে থেকেই হামলা চালায়।

লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. রেজাউল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার লক্ষ্যে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। বিকেলে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল করার চেষ্টা হলে পুলিশ বাধা দেয় এবং এ ঘটনায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-ঘটনা ঘটে। 현재 পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত এবং স্বভাবতই শান্ত রয়েছে।

আহত ব্যক্তিদের সঠিক সংখ্যা ও ঘটনার বিস্তারিত যাচাই-বাছাই চলছে। প্রশাসন ও পুলিশ উভয়পক্ষে কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে যাতে আরেকটি বিশৃঙ্খলা না ঘটে।