০৮:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সিইসি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ শপথফরম দাখিল করে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্কুল চলাকালীন যানজট নিরসনে প্রস্তাবনা তৈরি করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী ফায়ার সার্ভিসের নতুন মহাপরিচালক মাহমুদুল হাসান অপরাধ ১৪ জেলায় নতুন প্রশাসক নিয়োগ শিগগিরই তালিকায় থাকা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চেহারা প্রকাশ করবে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সরকারের উদ্যোগ: কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সার ও বীজ সরবরাহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাসের পরিকল্পনা ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স বিভাগের নতুন পরিচালক লে. কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা শিগগিরই প্রকাশ করবে মন্ত্রণালয়: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী ১৫ জেলায় ঝড়, বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা: ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝঁড়ো হাওয়া

দুবাই উপকূলে কুয়েতি তেলবাহী জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়ের জলসীমায় সম্প্রতি ঘটে আরও এক বড় ধরনের সামরিক ঘটনা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই দুবাইয়ের উপকূলে নিযুক্ত কুয়েতের একটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোনের মাধ্যমে হামলা চালিয়েছে। এই গতিবিধি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিবেচনায় নয়, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ বিষয়ের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হামলার শিকার জাহাজটি প্রচুর পরিমাণে জ্বালানি তেল বহন করছিল। যদিও এখন পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর না এলেও, ড্রোনের বিস্ফোরণে জাহাজের কাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে পারস্য উপসাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার ভয়ঙ্কর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। কুয়েত সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র বলে মনে করা হয়, তাই এই হামলায় ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হামলাটি সম্ভবত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর হুঁশিয়ারির জবাব হিসেবে ইরান দ্বারা চালানো হয়েছে। ট্রাম্প গত রোববার ঘোষণা করেছিলেন, প্রয়োজন পড়লে তিনি ইরানের তেল রপ্তানির কেন্দ্রসমূহ ও strategically গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ দখল করে নেবেন। তার এই হুমকির মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরে কুয়েতের জাহাজে হামলা, ইরানের পাল্টা আক্রমণের এক জোরালো বার্তা। ইরানের এই আক্রমণ, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যকে লক্ষ্য করে সিন্ডিকেট ও সামরিক অভিযান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হয়। তখন ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চললেও কোনও সমঝোতা না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। সেই সময়, যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে, যা ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তাদের হতাহত করে। এরপরই ইরান পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যায়, যা এখনো অব্যাহত। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে। এই ধরণের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও সমুদ্রপথকে এক অপ্রতিরোধ্য যুদ্ধক্ষেত্রের রূপ দিয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতি অস্থিরতার মধ্যে পড়িয়ে দিয়েছে। এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি ও এলাকা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক আমাদের গভীর দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

স্কুল চলাকালীন যানজট নিরসনে প্রস্তাবনা তৈরি করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

দুবাই উপকূলে কুয়েতি তেলবাহী জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলা

প্রকাশিতঃ ০৩:৫২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়ের জলসীমায় সম্প্রতি ঘটে আরও এক বড় ধরনের সামরিক ঘটনা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই দুবাইয়ের উপকূলে নিযুক্ত কুয়েতের একটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোনের মাধ্যমে হামলা চালিয়েছে। এই গতিবিধি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিবেচনায় নয়, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ বিষয়ের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হামলার শিকার জাহাজটি প্রচুর পরিমাণে জ্বালানি তেল বহন করছিল। যদিও এখন পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর না এলেও, ড্রোনের বিস্ফোরণে জাহাজের কাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে পারস্য উপসাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার ভয়ঙ্কর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। কুয়েত সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র বলে মনে করা হয়, তাই এই হামলায় ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হামলাটি সম্ভবত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কঠোর হুঁশিয়ারির জবাব হিসেবে ইরান দ্বারা চালানো হয়েছে। ট্রাম্প গত রোববার ঘোষণা করেছিলেন, প্রয়োজন পড়লে তিনি ইরানের তেল রপ্তানির কেন্দ্রসমূহ ও strategically গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ দখল করে নেবেন। তার এই হুমকির মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরে কুয়েতের জাহাজে হামলা, ইরানের পাল্টা আক্রমণের এক জোরালো বার্তা। ইরানের এই আক্রমণ, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যকে লক্ষ্য করে সিন্ডিকেট ও সামরিক অভিযান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হয়। তখন ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চললেও কোনও সমঝোতা না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। সেই সময়, যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে, যা ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তাদের হতাহত করে। এরপরই ইরান পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যায়, যা এখনো অব্যাহত। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে। এই ধরণের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও সমুদ্রপথকে এক অপ্রতিরোধ্য যুদ্ধক্ষেত্রের রূপ দিয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতি অস্থিরতার মধ্যে পড়িয়ে দিয়েছে। এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি ও এলাকা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক আমাদের গভীর দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছে।