০৫:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

টিআইবি: ব্যাংক রেজল্যুশন আইন লুটেরাদের পুনর্বাসনের পথ খুলে দিয়েছে

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬’ ব্যাংক খাতের দুর্বল ও একীভূত প্রতিষ্ঠানগুলোর পুরোনো শেয়ারধারীদের পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ রেখে তৈরি করা হয়েছে, যা দোষীদের পুনর্বাসন করার মতো ব্যবস্থা তৈরি করছে এবং জবাবদিহিতাকে অবমূল্যায়ন করছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নতুন আইনে এমন একটি ধারা যুক্ত হয়েছে যেটি ব্যাংক বিপর্যয়ের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে তাদের দায়মুক্তির সুযোগ সৃষ্টি করছে। তাঁর মতে, এতে ব্যাংকিং খাত আবারও দুর্নীতি ও লুটপাটের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, আগের ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ–২০২৫’-এ যদিও দায়ীদের অর্থ ফেরত দিলেও মালিকানায় ফেরার সুযোগ থাকত না, কিন্তু নতুন আইন সেই সীমাবদ্ধতা তুলে দিয়ে পুরোনো মালিকদের ফেরত আনার পথ খুলে দিয়েছে। টিআইবি এ ধরনের সংশোধনকে সুশাসনের পরিপন্থী হিসেবে দেখছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত হতাশাজনক; এটি দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি দূর করার বদলে সেই সমস্যাগুলোকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে। বাস্তবে এতে দায়ীদের শাস্তি না দিয়ে পুরস্কৃত করা হচ্ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক খাতে প্রতিষ্ঠিত ও স্থায়ী পরিবর্তন আনতে হলে দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। অন্যথায় মালিকানা পুনর্বহাল জাতীয় সংস্কার প্রচেষ্টাকে পিছিয়ে দেবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

টিআইবি সরকারের কাছে এই প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে বলেছে, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার নামে যে আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে, তা যদি ঠিকভাবে পরিকল্পিত না হয় তবে শেষ পর্যন্ত সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর স্বার্থই সুরক্ষিত হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

টিআইবি: ব্যাংক রেজল্যুশন আইন লুটেরাদের পুনর্বাসনের পথ খুলে দিয়েছে

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬’ ব্যাংক খাতের দুর্বল ও একীভূত প্রতিষ্ঠানগুলোর পুরোনো শেয়ারধারীদের পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ রেখে তৈরি করা হয়েছে, যা দোষীদের পুনর্বাসন করার মতো ব্যবস্থা তৈরি করছে এবং জবাবদিহিতাকে অবমূল্যায়ন করছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নতুন আইনে এমন একটি ধারা যুক্ত হয়েছে যেটি ব্যাংক বিপর্যয়ের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে তাদের দায়মুক্তির সুযোগ সৃষ্টি করছে। তাঁর মতে, এতে ব্যাংকিং খাত আবারও দুর্নীতি ও লুটপাটের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, আগের ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ–২০২৫’-এ যদিও দায়ীদের অর্থ ফেরত দিলেও মালিকানায় ফেরার সুযোগ থাকত না, কিন্তু নতুন আইন সেই সীমাবদ্ধতা তুলে দিয়ে পুরোনো মালিকদের ফেরত আনার পথ খুলে দিয়েছে। টিআইবি এ ধরনের সংশোধনকে সুশাসনের পরিপন্থী হিসেবে দেখছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত হতাশাজনক; এটি দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি দূর করার বদলে সেই সমস্যাগুলোকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে। বাস্তবে এতে দায়ীদের শাস্তি না দিয়ে পুরস্কৃত করা হচ্ছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক খাতে প্রতিষ্ঠিত ও স্থায়ী পরিবর্তন আনতে হলে দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। অন্যথায় মালিকানা পুনর্বহাল জাতীয় সংস্কার প্রচেষ্টাকে পিছিয়ে দেবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

টিআইবি সরকারের কাছে এই প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে বলেছে, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার নামে যে আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে, তা যদি ঠিকভাবে পরিকল্পিত না হয় তবে শেষ পর্যন্ত সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর স্বার্থই সুরক্ষিত হবে।