০৬:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এপ্রিলেই ভারত থেকে আরও ১৭ হাজার টন ডিজেল আসছে অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বদলি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি এজেক প্লাস সম্মেলনে বক্তব্য রাখলেন কক্সবাজার থেকে শিগগিরই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু হবে: বিমানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা: ১ জুলাই থেকে পাঁচ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি শুরু প্রধানমন্ত্রী জানালেন: সরকারি ৫ লাখ কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত পহেলা বৈশাখে ধর্ম-বর্ণ বিভেদের কোনো স্থান নেই: তথ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইলে মওলানা ভাসানীর মাজারে জিয়ারত প্রধানমন্ত্রী: গাছে আম-জাম ধরলে পাঠাবেন, আমি হাতে খেয়ে দেখব টাঙ্গাইলে মওলানা ভাসানীর মাজারে জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

কনকচাঁপার সঙ্গে অশোভন আচরণকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রুহুল কবির রিজভী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন জনপ্রিয় শিল্পী রুমানা মোর্শেদ ‘কনকচাঁপা’। দল তাকে শেষপর্যন্ত মনোনীত না করলে গতকাল, শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে তিনি বায়ার্নে নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য যান। সেই সময় বগুড়ার কয়েকজন নারী নেতা সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টির মাধ্যমে অপ্রাসঙ্গিক স্লোগান দেন এবং কনকচাঁপার বিরুদ্ধে অপমানজনক আচরণ করেন। পরে সহকর্মীদের সহযোগিতায় তিনি শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিতে সক্ষম হন।

এই ঘটনার প্রতি দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, যারা এই ধরনের আচরণ করেছে তাদের সাংস্কৃতিক ও শৈলীর ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট। এ ধরনের আচরণ পরিসংখ্যানহীন ও অনুচিত। তিনি প্রশ্ন করেন, সেলিব্রেটিরা রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বা সমর্থন করলে কেন তা অবমাননাকরভাবে দেখা হবে—পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এমন উদাহরণ নেই।

রিজভী আরো বলেন, সবাই মাঠে নেমে লড়াই করবে এমন সীমা নেই; বড় শিল্পীরাও বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক মহৎ লক্ষ্য ও আন্দোলনে অবদান রাখতে পারেন। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এমাজ উদ্দিন স্যার রাস্তার মিছিলে দাঁড়াতেন না, তবু তিনি বিএনপিকে সমর্থন করতেন—এটাই দেশের মানুষ জানে।’’ এমন কাউকে পার্টি অফিসে গিয়ে অপমান করা যায় না। রিজভী বলেন, যাঁরা এ ধরনের কু-আচরণ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে কনকচাঁপা একটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে নিজের প্রতি হওয়া অন্যায় ও মানহানির বিচার আল্লাহর উপর ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। পোস্টে তিনি দলের প্রতি তার আনুগত্য, রাজনৈতিক যাত্রা ও ব্যক্তিগত কষ্টের বর্ণনা দিয়েছেন।

কনকচাঁপা লিখেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন সব ফয়সালার রচয়ী আল্লাহ তায়ালা, এবং দলের সিদ্ধান্ত নীতিনির্ধারকদের ওপর পূর্ণ ভরসা ও সম্মান রাখেন। তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ২০১৩ সালে; তখন বেগম খালেদা জিয়া তাকে সরাসরি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করেন। সেই নির্দেশ মেনে তিনি কাজ শুরু করেছিলেন এবং ২০১৮ সালে একজন কুশলী রাজনীতিকের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নমিনেশন পেয়ে নির্বাচনী মাঠে নামেন।

পোস্টে কনকচাঁপা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি নানাভাবে নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন—মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন; এমনকি গান গাওয়ার মতো তার প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্থ হয়েছে। নিজেকে সজীব রাখার জন্য তিনি ছবি আঁকা ও পরিবারের সাথে সময় কাটানোসহ নানা কাজ করে চলেছেন।

তিনি আরও লেখেন, এবারের নির্বাচনে তিনি ভিড় পেরিয়ে কাজ করেছেন, দল তাকে মনোনয়ন না দিলেও তিনি তা মেনে নিয়েছেন এবং দলের প্রতি তার আনুগত্য শতভাগ অটুট। তবে ভিত্তিহীন প্রচারণায় তাকে নীচে দেখানো এবং মিথ্যাচার করা দুঃপ্রচেষ্টা বলে তিনি মন্তব্য করেছেন; তার মনে হয়, যারা চাইনি তিনি নমিনেশন পেয়ে, তারা এখনও অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।

শেষে কনকচাঁপা লিখেছেন, দলের কোনো ইমেজ ক্ষুণ্ণ হলে তিনি দুঃখিত, তার বিরুদ্ধে হওয়া অন্যায়ের বিচার তিনি আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিয়েছেন এবং ব্যক্তিগত আঘাতের পরও দলের প্রতি তার সম্মান ও আনুগত্য বহাল থাকবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বদলি

কনকচাঁপার সঙ্গে অশোভন আচরণকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে: রুহুল কবির রিজভী

প্রকাশিতঃ ০৭:২৬:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন জনপ্রিয় শিল্পী রুমানা মোর্শেদ ‘কনকচাঁপা’। দল তাকে শেষপর্যন্ত মনোনীত না করলে গতকাল, শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে তিনি বায়ার্নে নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য যান। সেই সময় বগুড়ার কয়েকজন নারী নেতা সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টির মাধ্যমে অপ্রাসঙ্গিক স্লোগান দেন এবং কনকচাঁপার বিরুদ্ধে অপমানজনক আচরণ করেন। পরে সহকর্মীদের সহযোগিতায় তিনি শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিতে সক্ষম হন।

এই ঘটনার প্রতি দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, যারা এই ধরনের আচরণ করেছে তাদের সাংস্কৃতিক ও শৈলীর ভারসাম্যহীনতা স্পষ্ট। এ ধরনের আচরণ পরিসংখ্যানহীন ও অনুচিত। তিনি প্রশ্ন করেন, সেলিব্রেটিরা রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বা সমর্থন করলে কেন তা অবমাননাকরভাবে দেখা হবে—পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এমন উদাহরণ নেই।

রিজভী আরো বলেন, সবাই মাঠে নেমে লড়াই করবে এমন সীমা নেই; বড় শিল্পীরাও বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক মহৎ লক্ষ্য ও আন্দোলনে অবদান রাখতে পারেন। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এমাজ উদ্দিন স্যার রাস্তার মিছিলে দাঁড়াতেন না, তবু তিনি বিএনপিকে সমর্থন করতেন—এটাই দেশের মানুষ জানে।’’ এমন কাউকে পার্টি অফিসে গিয়ে অপমান করা যায় না। রিজভী বলেন, যাঁরা এ ধরনের কু-আচরণ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে কনকচাঁপা একটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে নিজের প্রতি হওয়া অন্যায় ও মানহানির বিচার আল্লাহর উপর ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। পোস্টে তিনি দলের প্রতি তার আনুগত্য, রাজনৈতিক যাত্রা ও ব্যক্তিগত কষ্টের বর্ণনা দিয়েছেন।

কনকচাঁপা লিখেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন সব ফয়সালার রচয়ী আল্লাহ তায়ালা, এবং দলের সিদ্ধান্ত নীতিনির্ধারকদের ওপর পূর্ণ ভরসা ও সম্মান রাখেন। তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ২০১৩ সালে; তখন বেগম খালেদা জিয়া তাকে সরাসরি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করেন। সেই নির্দেশ মেনে তিনি কাজ শুরু করেছিলেন এবং ২০১৮ সালে একজন কুশলী রাজনীতিকের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নমিনেশন পেয়ে নির্বাচনী মাঠে নামেন।

পোস্টে কনকচাঁপা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে তিনি নানাভাবে নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন—মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন; এমনকি গান গাওয়ার মতো তার প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্থ হয়েছে। নিজেকে সজীব রাখার জন্য তিনি ছবি আঁকা ও পরিবারের সাথে সময় কাটানোসহ নানা কাজ করে চলেছেন।

তিনি আরও লেখেন, এবারের নির্বাচনে তিনি ভিড় পেরিয়ে কাজ করেছেন, দল তাকে মনোনয়ন না দিলেও তিনি তা মেনে নিয়েছেন এবং দলের প্রতি তার আনুগত্য শতভাগ অটুট। তবে ভিত্তিহীন প্রচারণায় তাকে নীচে দেখানো এবং মিথ্যাচার করা দুঃপ্রচেষ্টা বলে তিনি মন্তব্য করেছেন; তার মনে হয়, যারা চাইনি তিনি নমিনেশন পেয়ে, তারা এখনও অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।

শেষে কনকচাঁপা লিখেছেন, দলের কোনো ইমেজ ক্ষুণ্ণ হলে তিনি দুঃখিত, তার বিরুদ্ধে হওয়া অন্যায়ের বিচার তিনি আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিয়েছেন এবং ব্যক্তিগত আঘাতের পরও দলের প্রতি তার সম্মান ও আনুগত্য বহাল থাকবে।