০৮:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

অলরাউন্ড কীর্তিতে ফিরলেন মোসাদ্দেক

দীর্ঘ ১৪০৪ দিনের বিরতির পর জাতীয় দলের ওয়ানডে একাদশে ফিরেই নিজের সক্ষমতা মনে করিয়ে দিলেন অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। সিরিজের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাটিং-বলিং—উভয় দিকেই তাঁর চোখে পড়ার মতো অবদান ছিল, যা দলকে বড় ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

৩০ বছর বয়সী মোসাদ্দেক যখন ব্যাট হাতে নামেন, তখন দল বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ছিল। অত্যন্ত ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে ইনিংস শুরু করে শেষভাগে তিনি আক্রমণাত্মক রূপ নেন এবং অপরাজিত ৮৬ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস উপহার দেন। সাতটি চার ও তিনটি ছক্কায় সজ্জিত এই ইনিংস বাংলাদেশের সংগ্রহকে লড়াকু করে তোলে এবং বিশেষ করে স্লগ ওভারগুলোতে তাঁর আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংই দলের মনোবল অনেকাংশে সংশোধন করে।

ব্যাটিংয়ের পর বল হাতেও তিনি সমান কার্যকর ছিলেন। নিয়ন্ত্রিত অফ-স্পিন বল করে নির্ধারিত ১০ ওভারে মাত্র ৩৭ রান খরচ করে দুটি উইকেট নেন—রান৪টা ঠেকিয়ে রাখার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেকথ্রু এনে দিয়ে দলের ভারসাম্য রক্ষা করেন। তার বুদ্ধিদীপ্ত ফিল্ডিংও দলের দফতরিক কাজে ভূমিকা রাখে। এই কর্মক্ষমতা প্রমাণ করে দীর্ঘ সময় দলের বাইরে থাকা অবস্থায়ও তার ধার বজায় রয়েছে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক সফলতা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় দলে দলে স্থান পাওয়া নিয়ে মোসাদ্দেকের পথ মসৃণ ছিল না; নির্বাচক মহলে তার সুযোগকে ঘিরে বিতর্কও দেখা গিয়েছিল। সাবেক নির্বাচক গাজী আশরাফ লিপুর মন্তব্য যাতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল—তবে ডিপিএল ও বিসিএলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে নিজেকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। আজকের ম্যাচটি মূলত তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও ধৈর্যের ফল।

মোসাদ্দেক সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন ২০২২ সালের আগস্টে, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে। চার বছরের ব্যবধানে অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার নিয়ে লাল-সবুজ জার্সিতে ফিরে এসে মাঠের ভাষায় সকল সমালোচনার জবাব দিয়েছেন তিনি। ক্রীড়া বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাঁর এই সফল প্রত্যাবর্তন আগামী সিরিজগুলোর জন্য বাংলাদেশের রণকৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং দলের জন্য তিনি এখন পুনরায় অপরিহার্য সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

অলরাউন্ড কীর্তিতে ফিরলেন মোসাদ্দেক

প্রকাশিতঃ ০৭:২৩:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

দীর্ঘ ১৪০৪ দিনের বিরতির পর জাতীয় দলের ওয়ানডে একাদশে ফিরেই নিজের সক্ষমতা মনে করিয়ে দিলেন অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। সিরিজের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাটিং-বলিং—উভয় দিকেই তাঁর চোখে পড়ার মতো অবদান ছিল, যা দলকে বড় ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

৩০ বছর বয়সী মোসাদ্দেক যখন ব্যাট হাতে নামেন, তখন দল বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ছিল। অত্যন্ত ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে ইনিংস শুরু করে শেষভাগে তিনি আক্রমণাত্মক রূপ নেন এবং অপরাজিত ৮৬ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস উপহার দেন। সাতটি চার ও তিনটি ছক্কায় সজ্জিত এই ইনিংস বাংলাদেশের সংগ্রহকে লড়াকু করে তোলে এবং বিশেষ করে স্লগ ওভারগুলোতে তাঁর আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংই দলের মনোবল অনেকাংশে সংশোধন করে।

ব্যাটিংয়ের পর বল হাতেও তিনি সমান কার্যকর ছিলেন। নিয়ন্ত্রিত অফ-স্পিন বল করে নির্ধারিত ১০ ওভারে মাত্র ৩৭ রান খরচ করে দুটি উইকেট নেন—রান৪টা ঠেকিয়ে রাখার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেকথ্রু এনে দিয়ে দলের ভারসাম্য রক্ষা করেন। তার বুদ্ধিদীপ্ত ফিল্ডিংও দলের দফতরিক কাজে ভূমিকা রাখে। এই কর্মক্ষমতা প্রমাণ করে দীর্ঘ সময় দলের বাইরে থাকা অবস্থায়ও তার ধার বজায় রয়েছে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক সফলতা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় দলে দলে স্থান পাওয়া নিয়ে মোসাদ্দেকের পথ মসৃণ ছিল না; নির্বাচক মহলে তার সুযোগকে ঘিরে বিতর্কও দেখা গিয়েছিল। সাবেক নির্বাচক গাজী আশরাফ লিপুর মন্তব্য যাতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল—তবে ডিপিএল ও বিসিএলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে নিজেকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। আজকের ম্যাচটি মূলত তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও ধৈর্যের ফল।

মোসাদ্দেক সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন ২০২২ সালের আগস্টে, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে। চার বছরের ব্যবধানে অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার নিয়ে লাল-সবুজ জার্সিতে ফিরে এসে মাঠের ভাষায় সকল সমালোচনার জবাব দিয়েছেন তিনি। ক্রীড়া বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাঁর এই সফল প্রত্যাবর্তন আগামী সিরিজগুলোর জন্য বাংলাদেশের রণকৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং দলের জন্য তিনি এখন পুনরায় অপরিহার্য সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।