১১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি থেকে মসৃণ উত্তরণে ইইউ ও জি-৭৭ বাংলাদেশের পাশে লোভনীয় চাকরির টোপে কম্বোডিয়ায় বন্দি হচ্ছেন বাংলাদেশিরা এলডিসি উত্তরণে ইইউ ও জি-৭৭-এর সমর্থন নিশ্চিত লোভনীয় চাকরির ফাঁদ: কম্বোডিয়ার ‘সাইবার দাসত্বে’ বন্দি বাংলাদেশিরা এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার

বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসির সামনে ১১টি রেকর্ডের চ্যালেঞ্জ

লিওনেল মেসির গৌরবের ফাইল এতটাই ভারী যে নতুন কোনো কৃতিত্ব তাঁর কাছে স্বাভাবিক লাগতে শুরু করেছে। তবুও স্পেনের বিপক্ষে আসন্ন ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালটা হয়তো তাঁর ক্যারিয়ারের একেবারে উজ্জ্বল অধ্যায় হবে — শুধু শিরোপা ধরে রাখাই নয়, একের পর এক ঐতিহাসিক রেকর্ডও তাঁর সামনে হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়েছে।

৩৯ বছর ২৫ দিন বয়সে ফাইনালে নেমে মেসি গোলরক্ষক ছাড়া বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক ফাইনাল খেলোয়াড় হিসেবে কীর্তি গড়তে পারেন। বর্তমানে পুরো তালিকায় গোলরক্ষকসহ শীর্ষে রয়েছেন ইতালির কিংবদন্তি দিনো জফ; মেসি যদি মাঠে নামেন, আউটফিল্ডার হিসেবে তাঁর নাম আলাদা করে লেখা হবে।

আর্জেন্টিনার হয়ে অধিনায়ক হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে নেতৃত্ব দেওয়ার বিরল মর্যাদাও হাতে আসতে চলছে মেসির। আগে ডিয়েগো ম্যারাডোনা দুইবার ফাইনালে দেশের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন; বিশ্বকালের কেবল কয়েকজনের মধ্যেই তিনবারের এই কৃতিত্ব আছে — ব্রাজিলের কাফুও তাঁদের অন্যতম। মেসি এই কাতার-২০১4 ও ২০২২ পর এবার তৃতীয়বার ফাইনালে অধিনায়ক হিসেবে থাকলে নিজ স্বকীয় নজির গড়বেন। তাছাড়া স্পেনের বিরুদ্ধে জয় পেলেই মেসির অধীনে দল দুইবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য গৌরব অর্জিত হবে এবং আর্জেন্টিনা ব্রাজিল ও ইতালির পর টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের তৃতীয় দেশ হিসেবে ইতিহাসে নাম খোদাবে।

ব্যক্তিগত দিক থেকেও ফাইনালটি মেসির জন্য রেকর্ড-বুকের পাতায় নতুন ছাপ ফেলতে পারে। ফাইনালে একটি গোল করলেই তিনি সুইডেনের নিলস লিডহোমকে ছাড়িয়ে ফাইনালের সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নেবেন। যদি তাঁর গোলসংখ্যা চলতি টুর্নামেন্টে আটে পৌঁছে, তাহলে ১৯৩০ সালের গিয়ের্মো স্তাবিলের আর্জেন্টিনার এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের ঐতিহ্যকে ছোঁয়া হবে। দুই গোল হলে এক আসরে ১০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি — এমন কীর্তি আগে ইউরোপ বাদে কেউ করতে পারেননি; এ রেকর্ডে আগে শুধু জুস্ট ফন্টেন, শান্দর কোচিস ও গার্ড মুলারের নাম দেখা গেছে।

তাছাড়া ২০২২ সালের কাতার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে জোড় গোল করার পর যদি মেসি এখনও গোল করেন, তিনি হবেন ষষ্ঠ ফুটবলার যিনি দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করতে পেরেছেন। দুটি গোল করলে ফাইনালে সর্বোচ্চ চার গোলের রেকর্ডধারী কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে তিনি সমান হবেন; আর হ্যাটট্রিক করলে এককভাবে শীর্ষ স্থানে উঠে আসবেন।

ফাইনালে তাঁর জালের দেখা পেলে ব্রাজিলের রোনালদোর নামে থাকা — চ্যাম্পিয়ন দলের হয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ আট গোল — এর মতো রেকর্ডও ভাঙার সম্ভাবনা জাগবে। তাই এই ফাইনাল কেবল একটি শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ নয়; মেসির বায়োপিকে আরেকটি অধ্যায় যোগ করার, ব্যক্তিগত কীর্তির নতুন সীমা লিখে দেওয়ার এক মহৎ সুযোগ।

অবশেষে, ম্যাচের ফলই সব সময় নির্ধারণ করবে — তবে ইতিহাস বলছে, মেসি মাঠে থাকলে কেবল এক ম্যাচ বাড়তি উত্তেজনা নয়, বহু রেকর্ডও ঠিক হতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

লোভনীয় চাকরির টোপে কম্বোডিয়ায় বন্দি হচ্ছেন বাংলাদেশিরা

বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসির সামনে ১১টি রেকর্ডের চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিতঃ ১০:৩৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

লিওনেল মেসির গৌরবের ফাইল এতটাই ভারী যে নতুন কোনো কৃতিত্ব তাঁর কাছে স্বাভাবিক লাগতে শুরু করেছে। তবুও স্পেনের বিপক্ষে আসন্ন ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালটা হয়তো তাঁর ক্যারিয়ারের একেবারে উজ্জ্বল অধ্যায় হবে — শুধু শিরোপা ধরে রাখাই নয়, একের পর এক ঐতিহাসিক রেকর্ডও তাঁর সামনে হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়েছে।

৩৯ বছর ২৫ দিন বয়সে ফাইনালে নেমে মেসি গোলরক্ষক ছাড়া বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক ফাইনাল খেলোয়াড় হিসেবে কীর্তি গড়তে পারেন। বর্তমানে পুরো তালিকায় গোলরক্ষকসহ শীর্ষে রয়েছেন ইতালির কিংবদন্তি দিনো জফ; মেসি যদি মাঠে নামেন, আউটফিল্ডার হিসেবে তাঁর নাম আলাদা করে লেখা হবে।

আর্জেন্টিনার হয়ে অধিনায়ক হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে নেতৃত্ব দেওয়ার বিরল মর্যাদাও হাতে আসতে চলছে মেসির। আগে ডিয়েগো ম্যারাডোনা দুইবার ফাইনালে দেশের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন; বিশ্বকালের কেবল কয়েকজনের মধ্যেই তিনবারের এই কৃতিত্ব আছে — ব্রাজিলের কাফুও তাঁদের অন্যতম। মেসি এই কাতার-২০১4 ও ২০২২ পর এবার তৃতীয়বার ফাইনালে অধিনায়ক হিসেবে থাকলে নিজ স্বকীয় নজির গড়বেন। তাছাড়া স্পেনের বিরুদ্ধে জয় পেলেই মেসির অধীনে দল দুইবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য গৌরব অর্জিত হবে এবং আর্জেন্টিনা ব্রাজিল ও ইতালির পর টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের তৃতীয় দেশ হিসেবে ইতিহাসে নাম খোদাবে।

ব্যক্তিগত দিক থেকেও ফাইনালটি মেসির জন্য রেকর্ড-বুকের পাতায় নতুন ছাপ ফেলতে পারে। ফাইনালে একটি গোল করলেই তিনি সুইডেনের নিলস লিডহোমকে ছাড়িয়ে ফাইনালের সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নেবেন। যদি তাঁর গোলসংখ্যা চলতি টুর্নামেন্টে আটে পৌঁছে, তাহলে ১৯৩০ সালের গিয়ের্মো স্তাবিলের আর্জেন্টিনার এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের ঐতিহ্যকে ছোঁয়া হবে। দুই গোল হলে এক আসরে ১০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি — এমন কীর্তি আগে ইউরোপ বাদে কেউ করতে পারেননি; এ রেকর্ডে আগে শুধু জুস্ট ফন্টেন, শান্দর কোচিস ও গার্ড মুলারের নাম দেখা গেছে।

তাছাড়া ২০২২ সালের কাতার ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে জোড় গোল করার পর যদি মেসি এখনও গোল করেন, তিনি হবেন ষষ্ঠ ফুটবলার যিনি দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করতে পেরেছেন। দুটি গোল করলে ফাইনালে সর্বোচ্চ চার গোলের রেকর্ডধারী কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে তিনি সমান হবেন; আর হ্যাটট্রিক করলে এককভাবে শীর্ষ স্থানে উঠে আসবেন।

ফাইনালে তাঁর জালের দেখা পেলে ব্রাজিলের রোনালদোর নামে থাকা — চ্যাম্পিয়ন দলের হয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ আট গোল — এর মতো রেকর্ডও ভাঙার সম্ভাবনা জাগবে। তাই এই ফাইনাল কেবল একটি শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ নয়; মেসির বায়োপিকে আরেকটি অধ্যায় যোগ করার, ব্যক্তিগত কীর্তির নতুন সীমা লিখে দেওয়ার এক মহৎ সুযোগ।

অবশেষে, ম্যাচের ফলই সব সময় নির্ধারণ করবে — তবে ইতিহাস বলছে, মেসি মাঠে থাকলে কেবল এক ম্যাচ বাড়তি উত্তেজনা নয়, বহু রেকর্ডও ঠিক হতে পারে।