১১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি থেকে মসৃণ উত্তরণে ইইউ ও জি-৭৭ বাংলাদেশের পাশে লোভনীয় চাকরির টোপে কম্বোডিয়ায় বন্দি হচ্ছেন বাংলাদেশিরা এলডিসি উত্তরণে ইইউ ও জি-৭৭-এর সমর্থন নিশ্চিত লোভনীয় চাকরির ফাঁদ: কম্বোডিয়ার ‘সাইবার দাসত্বে’ বন্দি বাংলাদেশিরা এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার

জিম্বাবুয়েকে ৩৪ রানে হারিয়ে সিরিজে টিকে রইল বাংলাদেশ

সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ৩৪ রানের দামি এক জয় তুলে নিয়ে সিরিজে নতুন করে আশা জাগিয়েছে। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে এখন ১-১ সমতা বজায় রয়েছে এবং ১৯ জুলাই বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে খেলাটি দেখা দিচ্ছে নির্ধারক ম্যাচের রূপে।

টস হারিয়ে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ এবং নির্ধারিত ওভারে শক্তিশালী ১৮৬ রানের সংগ্রহ গড়ে তোলেন তারা। ওপেনিং জুটি তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান উড়ন্ত সূচনা এনে দেন। উদ্বোধনী জুটিতে ১৪.৪ ওভারে ১২০ রান যোগ করে ম্যাচের ভরসা গড়ে তোলেন এই দুই ব্যাটসম্যান। সাইফ ৪৫ বলে ৫৫ রান করে ফেরেন, আর ঠিক পরের ওভারেই তামিম ৪৪ বলে ৫৮ রান করে আউট হন।

শুরুটা দুর্দান্ত হওয়া সত্ত্বেও মাঝারি অর্ডারে দ্রুত উইকেট হারানোয় একপর্যায়ে দল ১৪১ রানে পাঁচ উইকেট পর্যন্ত পড়ে একটু চাপে চলে আসে। শেষদিকে ইয়াসির আলী রাব্বি ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ম্যাচকে তেড়ে নেয়ার মতো সমর্থন দেন। ইয়াসির মাত্র ১২ বলে ২২ রান করেন, আর সাইফুদ্দিন অপরাজিত থাকেন মাত্র ১০ বলে ৩১ রান করে—ইনিংসের শেষ ওভারে তিনি একাই ৪টি ছক্কায় ২৮ রান বাগান করে দলের স্কোর লাফিয়ে 늘িয়েছেন।

বাংলাদেশের দেয়া ১৮৭ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা বাংলাদেশের বোলিংয়ের চাপে পড়েন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে গিয়ে একসময় ১০৯ রান তুলতেই তারা ৮ উইকেট খুইয়ে ফেলে। দলের টপ অর্ডার ব্যর্থ হলেও রায়ান বার্ল ও সিকান্দার রাজা ছিলেন ব্যতিক্রম; বার্ল ১৯ বলে দলীয় সেরা ২৯ রান করেন এবং রাজা ১২ বলে ঝড়ো ২৮ সংগ্রহ করেন।

তবে তাদের বিদায়ের পর জিম্বাবুয়ের কোনো আশা দীর্ঘস্থায়ীভাবে টিকতে পারেনি। রিচার্ড এনগারাভা কিছুটা প্রতিরোধ দেখালেও তিনি মাত্র ২৩ রান খরচ করে ২ উইকেট নিয়েছেন। অন্যদিকে ব্র্যাড ইভান্স বল হাতে খরুচে ছিলেন; ৬৫ রানের ওপর খরচ করে তিনি ২ উইকেট নেন।

অষ্টম উইকেট পড়ে গেলে ব্র্যাড ইভান্স রিচার্ড এনগারাভার সঙ্গে নবম উইকেটে ৪০ রানের একটি জুটি গড়েন, যা স্বাগতিকদের জয়ের দূরত্বটা খানিকটা কমায়। কিন্তু সাইফুদ্দিনের একটি বল পারভেজ হোসেন ইমনের হাতে ক্যাচ হওয়াতে ইভান্স ফেরেন, এরপর রিশাদ হোসেনের বলে ব্লেসিং মুজারাবানি বোল্ড হওয়ায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস ১৫২ রানে থেমে যায়।

বোলিংয়ে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল ম্যাচজয়ী। রিশাদ হোসেন সবচেয়ে সফল ছিলেন—২৬ রানের কাছে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। শেখ মেহেদী হাসান ২৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখেন। এছাড়া নাহিদ রানা, সাইফ হাসান ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন—প্রত্যেকেই একটি করে উইকেট নিয়ে ফল গড়ে তোলেন।

শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়েকে ৩৪ রানে হারিয়ে সিরিজের নাটক নতুন করে উষ্ণ হয়েছে। এখন সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে দুই দলে চাপ ও উত্তেজনা থাকবে—দুই দলেরই ভাগ্য নির্ধারিত হবে ১৯ জুলাই।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

লোভনীয় চাকরির টোপে কম্বোডিয়ায় বন্দি হচ্ছেন বাংলাদেশিরা

জিম্বাবুয়েকে ৩৪ রানে হারিয়ে সিরিজে টিকে রইল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ ০২:২২:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ৩৪ রানের দামি এক জয় তুলে নিয়ে সিরিজে নতুন করে আশা জাগিয়েছে। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে এখন ১-১ সমতা বজায় রয়েছে এবং ১৯ জুলাই বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে খেলাটি দেখা দিচ্ছে নির্ধারক ম্যাচের রূপে।

টস হারিয়ে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ এবং নির্ধারিত ওভারে শক্তিশালী ১৮৬ রানের সংগ্রহ গড়ে তোলেন তারা। ওপেনিং জুটি তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান উড়ন্ত সূচনা এনে দেন। উদ্বোধনী জুটিতে ১৪.৪ ওভারে ১২০ রান যোগ করে ম্যাচের ভরসা গড়ে তোলেন এই দুই ব্যাটসম্যান। সাইফ ৪৫ বলে ৫৫ রান করে ফেরেন, আর ঠিক পরের ওভারেই তামিম ৪৪ বলে ৫৮ রান করে আউট হন।

শুরুটা দুর্দান্ত হওয়া সত্ত্বেও মাঝারি অর্ডারে দ্রুত উইকেট হারানোয় একপর্যায়ে দল ১৪১ রানে পাঁচ উইকেট পর্যন্ত পড়ে একটু চাপে চলে আসে। শেষদিকে ইয়াসির আলী রাব্বি ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ম্যাচকে তেড়ে নেয়ার মতো সমর্থন দেন। ইয়াসির মাত্র ১২ বলে ২২ রান করেন, আর সাইফুদ্দিন অপরাজিত থাকেন মাত্র ১০ বলে ৩১ রান করে—ইনিংসের শেষ ওভারে তিনি একাই ৪টি ছক্কায় ২৮ রান বাগান করে দলের স্কোর লাফিয়ে 늘িয়েছেন।

বাংলাদেশের দেয়া ১৮৭ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা বাংলাদেশের বোলিংয়ের চাপে পড়েন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে গিয়ে একসময় ১০৯ রান তুলতেই তারা ৮ উইকেট খুইয়ে ফেলে। দলের টপ অর্ডার ব্যর্থ হলেও রায়ান বার্ল ও সিকান্দার রাজা ছিলেন ব্যতিক্রম; বার্ল ১৯ বলে দলীয় সেরা ২৯ রান করেন এবং রাজা ১২ বলে ঝড়ো ২৮ সংগ্রহ করেন।

তবে তাদের বিদায়ের পর জিম্বাবুয়ের কোনো আশা দীর্ঘস্থায়ীভাবে টিকতে পারেনি। রিচার্ড এনগারাভা কিছুটা প্রতিরোধ দেখালেও তিনি মাত্র ২৩ রান খরচ করে ২ উইকেট নিয়েছেন। অন্যদিকে ব্র্যাড ইভান্স বল হাতে খরুচে ছিলেন; ৬৫ রানের ওপর খরচ করে তিনি ২ উইকেট নেন।

অষ্টম উইকেট পড়ে গেলে ব্র্যাড ইভান্স রিচার্ড এনগারাভার সঙ্গে নবম উইকেটে ৪০ রানের একটি জুটি গড়েন, যা স্বাগতিকদের জয়ের দূরত্বটা খানিকটা কমায়। কিন্তু সাইফুদ্দিনের একটি বল পারভেজ হোসেন ইমনের হাতে ক্যাচ হওয়াতে ইভান্স ফেরেন, এরপর রিশাদ হোসেনের বলে ব্লেসিং মুজারাবানি বোল্ড হওয়ায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস ১৫২ রানে থেমে যায়।

বোলিংয়ে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল ম্যাচজয়ী। রিশাদ হোসেন সবচেয়ে সফল ছিলেন—২৬ রানের কাছে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। শেখ মেহেদী হাসান ২৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখেন। এছাড়া নাহিদ রানা, সাইফ হাসান ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন—প্রত্যেকেই একটি করে উইকেট নিয়ে ফল গড়ে তোলেন।

শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়েকে ৩৪ রানে হারিয়ে সিরিজের নাটক নতুন করে উষ্ণ হয়েছে। এখন সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে দুই দলে চাপ ও উত্তেজনা থাকবে—দুই দলেরই ভাগ্য নির্ধারিত হবে ১৯ জুলাই।