১১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

গাজায় নির্বিচারে ফিলিস্তিনিদের হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ চিত্র

দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে গাজায় ইসরাইলি বাহিনী নির্মমভাবে আগ্রাসন চালাচ্ছে। এই সংঘাতের ফলে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিকের জীবন হুমকির মুখে পড়েছে, যার মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। ইসরাইলি সেনারা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে অসংখ্য অসহনীয় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক মানবিক ও যুদ্ধবিধির কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি। তারা বরং পৃথক দায়িত্বশীল অফিসারদের নির্দেশে এসব হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন। এসব ঘটনা সম্পর্কে সম্প্রতি ব্রিটিশ টেলিভিশনের প্রামাণ্যচিত্র ‘ব্রেকিং র‍্যাংকস: ইনসাইড ইসরাইলস ওয়ার’এ তাদের স্বচক্ষে দেখা ও কথার মাধ্যমে জানা গেছে। ডকুমেন্টারিটিতে ইসরাইলি সেনারা অকপটে নিজেদের কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। অনেক সেনা নিজেদের নাম প্রকাশ না করে গোপনে কথা বলেছেন, আবার কেউ কেউ মুখ খুলেছেন রেকর্ডের সামনে। তাদের ভাষ্য, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা অভিযান চালানো হয়েছে এবং এর জন্য নানা অজুহাত ও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির ব্যবহার করা হয়েছে। একজন ট্যাংক ইউনিটের কমান্ডার ড্যানিয়েল বলেছেন, ‘নির্বাচনী গুলি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কেউ বাধা দিতে পারবে না।’ পাশাপাশি তারা জানিয়েছেন, ইসরাইলি বাহিনী গাজা অঞ্চলের মানুষের ওপর মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে এবং খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে অবাধে গুলি করে হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ক্যাপ্টেন ইয়োতাম ভিল্কের মতে, আইডিএফের ট্রেনিংয়ে যা শেখানো হয়, তা হলো ‘মিন্স, ইনটেন্ট অ্যান্ড অ্যাবিলিটি’—অর্থাৎ, অস্ত্র, ক্ষতির লক্ষ্য ও সক্ষমতা। কিন্তু গাজায় এসবের কোনো মানে নেই। যারা নিষিদ্ধ এলাকায় হাঁটছেন, তার বয়স বা পরিচয় যা-ই হোক না কেন, সবই সন্দেহের কারণ। সেশন শেষে আরেক সেনা বলেছেন, জীবন ও মৃত্যু সম্পর্কিত নিয়ম বা ফায়ারিং প্রটোকল বলতে কিছু নেই; রণাঙ্গনে কমান্ডারের বিবেকই সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে, কাদের শত্রু বা সন্ত্রাসী বলে গণ্য করা হবে, তা অকল্পনীয়ভাবে মনগড়া হয়ে গেছে। প্রামাণ্যচিত্রে দেখা যায়, গাজা যুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতাগুলো 많은 ইসরাইলি সেনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

গাজায় নির্বিচারে ফিলিস্তিনিদের হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ চিত্র

প্রকাশিতঃ ১২:০০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে গাজায় ইসরাইলি বাহিনী নির্মমভাবে আগ্রাসন চালাচ্ছে। এই সংঘাতের ফলে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিকের জীবন হুমকির মুখে পড়েছে, যার মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। ইসরাইলি সেনারা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে অসংখ্য অসহনীয় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক মানবিক ও যুদ্ধবিধির কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি। তারা বরং পৃথক দায়িত্বশীল অফিসারদের নির্দেশে এসব হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন। এসব ঘটনা সম্পর্কে সম্প্রতি ব্রিটিশ টেলিভিশনের প্রামাণ্যচিত্র ‘ব্রেকিং র‍্যাংকস: ইনসাইড ইসরাইলস ওয়ার’এ তাদের স্বচক্ষে দেখা ও কথার মাধ্যমে জানা গেছে। ডকুমেন্টারিটিতে ইসরাইলি সেনারা অকপটে নিজেদের কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। অনেক সেনা নিজেদের নাম প্রকাশ না করে গোপনে কথা বলেছেন, আবার কেউ কেউ মুখ খুলেছেন রেকর্ডের সামনে। তাদের ভাষ্য, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা অভিযান চালানো হয়েছে এবং এর জন্য নানা অজুহাত ও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির ব্যবহার করা হয়েছে। একজন ট্যাংক ইউনিটের কমান্ডার ড্যানিয়েল বলেছেন, ‘নির্বাচনী গুলি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কেউ বাধা দিতে পারবে না।’ পাশাপাশি তারা জানিয়েছেন, ইসরাইলি বাহিনী গাজা অঞ্চলের মানুষের ওপর মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে এবং খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে অবাধে গুলি করে হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ক্যাপ্টেন ইয়োতাম ভিল্কের মতে, আইডিএফের ট্রেনিংয়ে যা শেখানো হয়, তা হলো ‘মিন্স, ইনটেন্ট অ্যান্ড অ্যাবিলিটি’—অর্থাৎ, অস্ত্র, ক্ষতির লক্ষ্য ও সক্ষমতা। কিন্তু গাজায় এসবের কোনো মানে নেই। যারা নিষিদ্ধ এলাকায় হাঁটছেন, তার বয়স বা পরিচয় যা-ই হোক না কেন, সবই সন্দেহের কারণ। সেশন শেষে আরেক সেনা বলেছেন, জীবন ও মৃত্যু সম্পর্কিত নিয়ম বা ফায়ারিং প্রটোকল বলতে কিছু নেই; রণাঙ্গনে কমান্ডারের বিবেকই সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে, কাদের শত্রু বা সন্ত্রাসী বলে গণ্য করা হবে, তা অকল্পনীয়ভাবে মনগড়া হয়ে গেছে। প্রামাণ্যচিত্রে দেখা যায়, গাজা যুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতাগুলো 많은 ইসরাইলি সেনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।