বক্স অফিসে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে মারাঠি ভাষার আধ্যাত্মিক ড্রামা ‘দেউল ব্যান্ড ২’ ইতিমধ্যেই চলচ্চিত্র জগতের নজর কাড়েছে। মাত্র ৮–১০ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত এই ছবিটি এখন পর্যন্ত প্রেক্ষাগৃহ থেকে ৮৯ কোটি রুপিরও বেশি আয় করেছে এবং দ্রুত ১০০ কোটির ক্লাবের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু এই সফলতার পেছনে শুধুমাত্র গল্প বা অভিনয় নয়—আছে এক অনন্য সমর্থনের কাহিনি। মুক্তির ঠিক আগ মুহূর্তে ডিসিপি (থিয়েটার রিলিজ ফরম্যাট) সংক্রান্ত একটি বড় প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সমস্যার কারণে ছবিটির মুক্তি ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। নির্মাতারা মনে করছিলেন ডিসিপি তৈরির খরচ আনুমানিক ১২ লাখ রুপি হবে, কিন্তু তাদের হাতে রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্ট থেকে প্রায় ৪২ লাখ রুপির একটি বিল এসে পৌঁছায়। সীমিত বাজেটের কারণে সেই মুহূর্তে এত বড় অঙ্ক পরিশোধ করা নির্মাতাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
পরিস্থিতি যখন জটিল আকার ধারণ করছিল, তখন এই খবর পৌঁছায় অভিনেতা-প্রযোজক শাহরুখ খানের কাছে। তিনি নিজের টেকনিক্যাল টিমকে দিয়ে বিষয়টি যাচাই করান। টিম জানায় যে ছবিটির নির্মাতারাই আগে প্রশংসিত মারাঠি ছবি ‘মুলশি প্যাটার্ন’ করেছেন, যা পরে হিন্দিতে সালমান খানের ‘অন্তিম: দ্য ফাইনাল ট্রুথ’ হিসেবে রিমেক হয়েছিল। সেই পরিচিতির প্রেক্ষিতে, যখন জানা যায় একটি ভালো আবেগঘন সিনেমা শুধুমাত্র অর্থের অভাবে থিয়েটারের কাগজে আটকে আছে, তখন শাহরুখ তৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি মেটাতে নির্দেশ দেন—ডিসিপি হস্তান্তর করে প্রদর্শন শুরু করার ব্যবস্থা করতে বলা হয় এবং বিল পরবর্তীতে সুরাহার করার অনুশাসন দেওয়া হয়।
পরিচালক প্রবীণ তার্দে এই সহায়তার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, যখন সিনেমাটির সাফল্যের কোনো নিশ্চয়তা ছিল না, তখন শাহরুখ খান মারাঠি সিনেমার প্রতি সম্মান দেখিয়ে নির্ভয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর সময়োপযোগী এই সহায়তা না থাকলে ‘দেউল ব্যান্ড ২’ হয়তো দর্শকের সামনে আসত না।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দেউল ব্যান্ড’-এর সিকুয়েল হিসেবে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে ভারতের কৃষকদের আত্মহত্যা প্রচলিত একটি সামাজিক সমস্যা এবং ভক্তি বনাম নাস্তিকতার মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বকে আবেগপূর্ণ ও সংবেদনশীল ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। ব্যতিক্রমী গল্প, সীমিত বাজেটেও সৃজনীশীল কাজ এবং এখন জনপ্রিয়তা—এসব মিলিয়ে ‘দেউল ব্যান্ড ২’ অনেকে মনে করছেন মারাঠি সিনেমার জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
শাহরুখ খানের এই সহযোগিতা শুধু এক ছবির মুক্তি রক্ষা করেনি, বরং স্বল্প বাজেটের আঞ্চলিক সিনেমাগুলোর প্রতি বড় প্রযোজনা সংস্থাগুলোর সহানুভূতি ও সহায়তার গুরুত্বকেও সামনে এনে দিয়েছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























