গত বছরের শুটিং শেষের পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়ার পর থেকেই দর্শক-সমালোচকদের আগ্রহ আর আলোচনা তৈরি করেছে তারকাবহুল ভৌতিক চলচ্চিত্র ‘আন্ধার’। ছবির চিত্রনাট্যকার ও সহপ্রযোজক শাকিব চৌধুরী করেছেন জানান, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে চলতি ২০২৬ সালের শেষ দিকে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দিতে চাওয়া হচ্ছে সিনেমাটি। তবে আনুষ্ঠানিক মুক্তি তারিখ ঘোষণা এবং ব্যাপক প্রচারণা আগামী বিশ্বকাপ ফুটবল শেষ হওয়ার পরেই শুরু হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
২২১ বি প্রযোজনা ব্যানারে নির্মিত এই হরর ঘরানার চলচ্চিত্রটির পরিচালনা করছেন জনপ্রিয় নির্মাতা রায়হান রাফি। ছবির কাস্টে রয়েছেন দেশের সমগ্রশীর্ষ অভিনেতারা—সিয়াম আহমেদ, নাজিফা তুষি, চঞ্চল চৌধুরী, আফসানা মিমি, গাজী রাকায়েত, মোস্তফা মনওয়ার ও তানজিকা আমিন। এছাড়া বড় পর্দায় অভিষেক ঘটছে নতুন মুখ ফররুখ আহমেদ রেহান ও স্বর্ণালী চৈতির।
উল্লেখ্য, ছবির অধিকাংশ ডাবিং কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ছবির চূড়ান্ত পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজের জন্য বর্তমানে পরিচালক রায়হান রাফি ভারতে অবস্থান করছেন। নির্মাণকাজ শেষ করে সিনেমাটিকে আন্তর্জাতিক মানের করে তোলার লক্ষ্যে পোস্ট-প্রোডাকশনে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হচ্ছে বলে প্রযোজনা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
চিত্রনাট্যের সূত্রপাত মূলত বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে। ‘অর্থহীন’ ব্যান্ডের সাইদুস সালেহীন সুমন এবং ব্যান্ড ক্রিপটিক ফেইটের শাকিব চৌধুরীর ভৌতিক অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম নিয়েছে গল্পের খুঁটিনাটি। এক সময় এই দুই বন্ধু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভৌতিক স্থান খোঁজার কাজে ঘুরে বেড়াতেন এবং তাদের তৎকালীন বন্ধু জিবরানকে সঙ্গে নিয়ে ‘ভৌতিস্ট’ নামের একটি রেডিও শোও চালান। সেই শো-ই পরে ছবির ধারণার মূল উৎস হিসেবে কাজ করেছে। পরবর্তীতে আদনান আদিব খান গল্প লেখায় যুক্ত হন এবং শাকিব চৌধুরী ও আদনান যৌথভাবে চিত্রনাট্য ও সংলাপ তৈরি করেন।
নির্মাতারা জানিয়েছেন, ‘আন্ধার’কে পশ্চিমা হররের ক্লিশে থেকে আলাদা রেখে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রেক্ষাপটে নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছে। ছবিতে কেবল ভয়ের দৃশ্য দেখানো নয়, বরং হরর ও মিস্ট্রি মেইন রাখা হয়েছে বলেও উল্লেখ আছে; সঙ্গে আছে থ্রিলার উপাদান, মরডার ইলিমেন্ট এবং চরিত্রগত গভীর আবেগঘন দিকগুলোও। নির্মাণকলা ও দর্শনীয়তার দিক থেকেও এটি একটি মানসম্মত, আন্তর্জাতিক স্তরের চলচ্চিত্র হিসেবে উপস্থাপন করার লক্ষ্য নিয়েই কাজ চলেছে।
প্রযোজনা দল জানিয়েছে, বিশ্বকাপ শেষে ঘোষিত নির্দিষ্ট মুক্তি তারিখ ও বড়মাত্রার প্রচার-ফেস্টিভ্যালের পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে যাতে দর্শকদের কৌতুহল ও আগ্রহ আরও বেড়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ‘আন্ধার’ দর্শকের সামনে কেমন প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























