নারী এশিয়ান কাপের গ্রুপপর্বের গুরুত্বপূর্ণ শেষ ম্যাচে আগামীকাল সোমবার বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে উজবেকিস্তান। অস্ট্রেলিয়ার পার্থ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করতে চলেছে। র্যাঙ্কিংয়ে উজবেকিস্তান শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলেও, এই ম্যাচটি জিতলে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপজয়ী হয়ে উঠবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। একাজ কেবল প্রতিযোগিতার ইতিহাসটাই বদলে দেবে না, বরং দলের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে অলিম্পিক ও বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নও জীবিত রাখবে।
ম্যাচের এক দিন আগে পার্থ স্টেডিয়ামের কনফারেন্স রুমে কোচ পিটার বাটলার ও অধিনায়িকা আফিদা খন্দকার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন। মাঠের রক্ষণে প্রতিপক্ষের আক্রমণ দক্ষতার সঙ্গে সামলানোর জন্য যে মনোভাব ও পেশাদারিত্ব দেখান, সংবাদ সম্মেলনেও তা স্পষ্ট। ম্যাচের চাপ যেনো না অনুভব করতে হয়, সেই ভাবনা নিয়ে অধিনায়িকা বলেন, “কাল আমাদের গ্রুপের শেষ ম্যাচ। আমরা সবাই চেষ্টা করব আমাদের সেরাটা দিয়ে মাঠে নামার। এখানে আমাদের হারানোর কিছু নেই। প্রথমবারের মতো এই আসরে কোয়ালিফাই করে নিজ দেশে গর্ববোধ করছি, এই অনুভূতি সবচেয়ে বড়।”
বাংলাদেশ ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাসে এই অর্জনের গুরুত্ব অনেক। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ পুরুষ দল এশিয়ান কাপ খেললেও একটিও জয় পায়নি। এরপর দীর্ঘ ৪৬ বছরেও তারা এশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ে ফেরার সুযোগ পাননি। কিন্তু নারী ফুটবল দল ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো এশিয়ান মঞ্চে পা রেখে বিশ্বের সামনে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করেছে। আফিদা মনে করেন, উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয় পাওয়া খুবই সম্ভব, এবং দলের প্রতিটি সদস্য মাঠের লড়াইয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত।
সংবাদ সম্মেলনে আফিদার ভাষার ধরন অনেকটা তারকা ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানের মতো—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বেশ সপ্রতিভ ও দৃঢ়প্রত্যয়ী ছিলেন। তিনি বললেন, “আমি কাউকে অনুকরণ করি না, তবে আমার বিশ্বাস, কথা বলার চেয়ে কাজের মূল্য বেশি। মাঠে পারফরম্যান্স দিয়ে নিজের প্রমাণই প্রকৃত সফলতা।”
এই ম্যাচ ভিন্নতর—এটি বাংলাদেশের নারীদের জন্য ‘ডু অর ডাই’স্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ড্র বা হার মানে টুর্নামেন্টের শেষ, তাই দলের খেলোয়াড়রা সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত। দেশবাসীর দোয়া ও সমর্থনে পার্থের মাঠে নতুন ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় এখন বাংলার মেয়েরা।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























